ajkerit

শবে বরাত সম্পর্কে হাদিস। শবে বরাতের ফজিলত। শবে বরাত

 

শবে বরাত সম্পর্কে হাদিস। শবে বরাতের ফজিলত। শবে বরাত

শাবানের ১৪ তারিখ রাত (শবে বরাত): ফজিলত ও আমল

শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাত, ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী একটি বিশেষ রাত। হাদিস শরিফে এ রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বলা হয়। এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে কোরআন মাজিদে সরাসরি নির্দেশনা না থাকলেও, হাদিস শরিফে নির্ভরযোগ্য সনদ বা বর্ণনাসূত্রে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।  

সালাফদের শবে বরাতের আমল সম্পর্কে বক্তব্য

  • ইবনে ওমর (রা.) বলেন, “পাঁচটি রাত এমন আছে, যে রাতের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। জুমার রাত, রজবের প্রথম রাত, শাবানের ১৪ তারিখ রাত, দুই ঈদের রাত।”
  • ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) বলেন, “বছরের চারটি রাত তুমি অবশ্যই লক্ষ রাখবে। কেননা সেসব রাতে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়—রজবের প্রথম রাত, শাবানের ১৪ তারিখ রাত, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার রাত।”
  • ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেন, “আমাদের কাছে খবর পৌঁছে যে পাঁচ রাতে দোয়া কবুল হয়। জুমার রাত, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার রাত, রজবের প্রথম রাত ও শাবানের ১৪ তারিখ রাত।”
  • শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, “শাবানের ১৪ তারিখ রাতের ফজিলত রয়েছে। পূর্ববর্তী মুসলিম মনীষীদের অনেকেই এ রাতে সালাত পড়তেন। তবে সম্মিলিতভাবে মসজিদে সে রাত জেগে থাকা বিদআত।”
  • ইমাম ইবনে রজব (রহ.) বলেন, “একজন মুমিন বান্দার উচিত, এ রাতে জিকির ও দোয়ার জন্য পুরোপুরি অবসর হওয়া।”

হাদিসের আলোকে শবে বরাতের ফজিলত

শবে বরাত সম্পর্কে হাদিস। শবে বরাতের ফজিলত। শবে বরাত

বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।” (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৬৬৫)

শবে বরাতে রোজা রাখা

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “১৫ শাবানের রাত (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনের বেলা রোজা রাখো।” এই বর্ণনাটির সনদ দুর্বল হলেও, হাদিসের প্রথম অংশ—ইবাদতের বিষয়টি অন্যান্য হাদিস দ্বারা সমর্থিত।

শাবানের ১৪ তারিখ রাত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। সালাফদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, এ রাতে ইবাদত-বন্দেগি করা উত্তম। তবে সম্মিলিতভাবে মসজিদে জেগে থাকা বিদআত। ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত, তওবা, ইস্তেগফার করা উচিত।

বিঃদ্রঃ: এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানার জন্য কোনো বিশ্বস্ত ইসলামি পণ্ডিতের সাথে পরামর্শ করা উত্তম।

শাবানের ১৫ তারিখ রোজা

শাবানের ১৫ তারিখ রোজা রাখার বিষয়েও হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে সনদের দৃঢ়তার বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি।

হাদিসের আলোকে শাবানের ১৫ তারিখ রোজা

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “১৫ শাবানের রাত (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনের বেলা রোজা রাখো।”

সালাফদের শাবানের ১৫ তারিখ রোজা সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি

  • আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) বলেন, “শাবানের ১৫ তারিখ রোজা রাখতে নিষেধ নেই। কেননা ১৫ তারিখ হলো আইয়ামে বিজের অন্তর্ভুক্ত।”
  • শায়খ ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, “শুধু এ দিন রোজা রাখার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া মাকরুহ। এমনটাই বলেছেন শায়খ ইবনে তাইমিয়া (রহ.)। উত্তম হলো ১৫ তারিখের সঙ্গে আগে পরে এক দিন মিলিয়ে নেওয়া।”
উপসংহার

শাবানের ১৫ তারিখ রোজা রাখার বিষয়ে সালাফদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে আইয়ামে বিজের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে এ দিন রোজা রাখা নিষেধ নয়। তবে শুধু এ দিন রোজা রাখার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া মাকরুহ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
ajkerit
ajkerit
ajkerit
ajkerit